“আলকিত মানুষ চাই ..............তরুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে টিকিয়ে রাখতে চাই আমাদের স্কুল”
১) একতা বাজার টু ডগির খাল পাড় (দক্ষিন দিকের এরিয়া),
২) একতা বাজার টু সাতলা-বাগধা সীমানা (উত্তর দিকের এরিয়া),
৩) একতা বাজার টু ঠেড়াবাড়ি, ভরতসেন, (পশ্চিম দিকের এরিয়া)
৪) মা ছবাজার টু বিলের মোল্লা বাড়ি (পশ্চিম-দক্ষিন দিকের এরিয়া)
সর্বমোট এই চার দিকের এরিয়া মিলে প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে। অথচ আমাদের এই নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রাইমারি স্কুল বলেন, হাই-স্কুল বলেন এই এরিয়ার ভিতরে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। তাই প্রতি বছর অনেক শিশুই ঝরে পড়ছে। তারা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার আলো খেকে। স্কুল অনেক দূরে হওয়ায় , হয় নদী পাড় হয়ে পূর্ব পাড়ে যেতে হবে, না হয় ৪-৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি তাদেরকে স্কুলে যেতে হয়। তাই অনেকে কষ্ট করে দুরের স্কুলে গেলেও তারা আস্তে আস্তে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। যার ফলে তারা স্কুলে যাবার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং এর প্রতি অনীহা প্রকাশ করে। এবং একপর্যায়ে তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
তাই বিল অঞ্চলের এইসব ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের পক্ষে স্কুলে যাওয়া সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। এই এলাকার প্রায় ৭০% মানুষ এই নিম্মআয়ের স্তরের। বেশির ভাগ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস মৎস চাষ, কেউ প্রবাসে থাকে,কেউ মৌসুমি ফসলের উপর নির্ভরশীল , আবার কেউ কেউ বিল থেকে শাপলা-শালুক, শামুক, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই এই সব অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত অবিভাবকেরা তাদের সন্তানকে স্কুলে না পাঠিয়ে তাদেরকে অল্প বয়সে বিভিন্ন কাজ- কর্মে পাঠিয়ে দিচ্ছে। মেয়ে সন্তান হলে তাকে ১২-১৩ বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে এই এলাকার বাল্যবিবাহের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
তাই ২০১৬ সালে এসেও এই এলাকায় কোন আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন দেখা যায় নি। যার ফলে দিনের পর দিন পশ্চিম পাড়ের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর থেকে স্কুলের এই সমস্যাটি সমাধানের নানা চেষ্টা চলছে। কিন্তু কেউ স্কুলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা বরাদ্দ না দেওয়ায় এই সমস্যাটির এখনও কোন সমাধান হয় নি।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ২০১১ সালে এলাকার কয়েকজন শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক মিলে নিজেদের উদ্যোগে “সাতলা মডেল বিদ্যানিকেতন” নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এই প্রতিষ্ঠানে প্রথমে প্লে-থেকে ৮ম শ্রেনী প্রযন্ত ক্লাস চলার কথা থাকলেও পরবর্তিতে তা ৫র্ম শ্রেণী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে।
স্কুলের জন্য জায়গার অভাব, আর্থিক সংকট, টিচার জটিলতা, ম্যানেজিং কমিটির অদক্ষতা নানা সম্যাসার কারনে স্কুলটি সফলতা পায়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে স্কুলটির কর্ণধর “আখতার হোসেন হিরু” মৃত্যুবরন করলে স্কুলটি এক ধরনের আভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। এই স্কুলটিও এখন ধ্বংসের পথে। স্কুলটি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বিপাকে পড়ে যাবে প্রায় দেড়-শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। স্কুলটি যার জায়গায় অবস্থিত তিনিও তার জায়গায় ভাড়া নিয়মিত না পেয়ে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি অনেক বৃত্তবান হওয়া সত্ত্বেও স্কুলের জন্য সামান্য এতটুকু জায়গার ত্যাগ স্বীকার করতে পারছেন না।
শুরু থেকেই টিচাররা তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পেয়েও কোনভাবে টেনেটুনে চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় প্রতেক টিচারের চার-পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন বাকি থাকায়ও তারা নিয়মিত ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কিছু তরুন যুবকেরা মাঝে মাঝে বিনা পারিশ্রমিকে ক্লাস নিয়ে টিচারদের সহায়তা করে থাকেন।
তাই স্কুলটি টিকিয়ে রাখতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে চাই তিনি যেন আমাদের এই স্কুলটিকে সরকারি পর্যায়ে নিবন্ধন করে আমাদের তরুন প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ হওয়ার সুযোগ দান করেন।
এবং দক্ষিন বাংলার ছাত্র সমাজের অবিভাবক আবিদ আল হাসানের কাছেও অনুরোধ জানাতে চাই তিনি যাতে তার এলাকার এই সংকট নিরসনের জন্য সর্বোপরি সহায়তা করেন।
আর এলাকাবাসীর কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি যে তারা যেন এই স্কুলটির দিকে সুনজরে তাকান।
সকল গুণীজনের কাছে পরামর্শ হিসেবে জানতে চাই কিভাবে কি করলে স্কুলটি আমরা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবো।
আপনাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ জ্ঞাপন করছি
“ সাতলা ইয়ুথ পার্লামেন্ট” এর পক্ষ থেকে।
সাতলা ইয়ুথ পার্লামেন্ট
https://web.facebook.com/SatlaYP/




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন